ঢাকা, ||

অচল বরিশাল সিটির মেগা প্রকল্প \\ অন্তহীন নাগরিক দুর্ভোগ



Uncategorized

প্রকাশিত: ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮

মাসুদ রানা,বরিশাল পিপলস ডট কম : বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেগা প্রকল্পের সব কাজই অচল হয়ে আছে। এতে একদিকে যেমন শত কোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে গেছে, অন্যদিকে এখানকার নাগরিকদের অন্তহীন দুর্ভোগ লেগেই আছে বলে মনে করেন নগরীর সচেতন মহল। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির জন্য দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, নিরাপত্তার কাজে স্থাপিত ২৬১টি সিসি ক্যামেরা, চার কিলোমিটারের ফোর লেন সড়ক, ৫০০ আসনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন, বিবির পুকুরের দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা। বিদ্যুৎ বিল বকেয়াসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এ উন্নয়ন কোনো কাজে লাগছে না বরিশালবাসীর। ফলে কোনো সুযোগ সুবিধাই ভোগ করতে পারছে না এখানকার জনগণ। বরিশাল নগরীর মধ্য দিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সৃষ্ট চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ফোর লেন সড়কটিও কোনো কাজে আসছে না নগরবাসীর। যানবাহনগুলো এ ফোর লেন ব্যবহারও করছে না বরং নতুন সৃষ্ট দুই পাশের সড়ক দখল করে যানবাহন পার্র্কিং, নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা ও ভাসমান দোকান গড়ে উঠেছে। এর ফলে ফোর লেনের ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনেকাংশে ভেস্থে গেছে বলে মনে করেন নগরবাসী।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল জানান, ফোর লেনটি জনবান্ধব করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোনো কাজে ব্যবহার হচ্ছে না বরিশালবাসীর। এরমধ্যে একটি কীর্তনখোলা নদীতে ভাঙনের মুখে পড়েছে। অন্যটি নির্মাণের পর থেকেই অকার্যকর। ফলে প্লান্ট দুইটি থেকে দৈনিক ছয় কোটি ৪০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন ও এর সুফল থেকে বঞ্চিত নগরবাসী। যদিও বিসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের ২৭ কোটি টাকা বিল বকেয়ার কারণে প্ল্যান্ট দুটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি।

বরিশাল সচেনত নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, বিষয়টি বিসিসি ও বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর ভুক্তভোগী কেন বরিশালের মানুষ হবে। এদিকে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামের নির্মাণ কাজ সাড়ে তিন বছরেও শেষ করতে পারেনি বিসিসি। ৫০০ আসনবিশিষ্ট পাঁচ তলা ভবন এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এ অডিটরিয়ামের সুবিধা থেকে বঞ্চিত বরিশালবাসী। নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সাংস্কৃতিক অঙ্গন। বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ইকবাল বলেন, সিটি করপোরেশনের কোনো কাজই ভালোভাবে হয় না। এ কাজের জন্যও সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

জানা গেছে, বিসিসি এলাকার বর্জ্য অপসারণে নগরীর পলাশপুর ও পুরান কয়লাঘাট এলাকায় দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় ওই টাকাও যেমন গচ্ছা যাচ্ছে, তেমনি নগরীর বর্জ্য অপসারণ নিয়ে চরম সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিরা।

বিসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান বলেন, বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত দুটি ‘সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন’ নির্মাণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগ সেখানে সংযোগ প্রদান করতে অস্বীকার করায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তেমনিভাবে নগরবাসীর নিরাপত্তায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ২৬১টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা কোনো কাজে আসছে না। দুই মাসের মাথায় সব ক্যামেরা অকার্যকর হয়ে পড়ে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বিসিসি অন্যান্য সিটি করপোরেশনের চেয়ে ভালো কাজ করছে। চেষ্টা করছে উন্নয়ন করার জন্য। কিন্তু বিদ্যুতের দোহাই দিয়ে উন্নয়ন কাজগুলো আলোর মুখ দেখছে না। এটা বিদ্যুৎ বিভাগের করা উচিত নয়। বিসিসি শহর রক্ষায় নদীতে বাঁধ দিয়েছে। তবে সিটি