ঢাকা, ||

সুশাসনের অভাবে মানুষ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে


এরশাদ
অর্থনীতি

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৭

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক সঙ্কট, প্রশাসনিক দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির চরম অবনতি, বিচার বিভাগসহ সর্বক্ষেত্রে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, দেশে এখন আইনের শাসন নেই বললেই চলে। তাই সাধারণ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে।

যৌথ সভায় বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মান্নান, ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, বিএনএ জোটের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, শেখ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সুনীল শুভ রায়, এটিইউ তাজ রহমান, মেজর অব. খালেদ আখতার, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জহিরুল আলম রুবেল নুরুচ্ছাফা সরকার ও এ কে এম আসরাফুজ্জামান খান, শফিকুল ইসলাম মধু, ইয়াহিয়া চৌধুরী এমপি, মহসিন উল হাবলু, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। সভা পরিচালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু।

যৌথসভা হলেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে জনসভায় রূপ নেয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ। সকাল থেকেই সারাদেশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, যুব সংহতি, ছাত্র সমাজের খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসতে থাকে রমনা এলাকায়।

এরশাদ বলেন, দেশ নাকি মধ্যম আয়ের দেশ। অথচ মাত্র তিন টাকার ডিম কেনার জন্য রাজধানীতে যা ঘটলো তা দেখে কি মনে হয় দেশ আসলে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হয়েছে?

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপি মাত্র ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে আছে। এর মধ্যে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমরা ২৬ বছর ক্ষমতার বাইরে। কিন্তু জণগণের ভালোবাসায় জাতীয় পার্টি এখনও দেশে জনপ্রিয় দল।

এরশাদ দলীয় নেতাকর্মীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ৯ বছরের শাসনামলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধর না। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার আমার সেই কর্মকাণ্ডের যে প্রশংসা করেছেন তাতে আমি অভিভূত। তারা সরকারি উচ্চপদে থেকেও আমার প্রশংসা করেছেন।

মিয়ানমারে সেনাপ্রধানের কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, রোহিঙ্গারা নাকি বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার গেছে, তারা বাঙালি। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের পর মনে হয় না রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে পাঠানো যাবে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিয়ে এরশাদ বলেন, আপনি যতই কূটনৈতিক তৎপরতা চালান না কেন মনে হয় না তারা আর ফিরে যেতে পারবে বা মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে। তাই আমি অনুরোধ করব তাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে যদি জাতীয় পার্টির সাহায্য প্রয়োজন হয়, আমরা সাধ্যমত সাহায্য করব।