ঢাকা, ||

চেয়ারম্যান মনিরের দুর্নীতির দুর্গ মেহেন্দিগঞ্জ জয়নগর পরিষদ



লিড নিউজ

প্রকাশিত: ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

বরিশাল পিপলস ডেস্ক ॥ অন্তহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে পথ চলছেন বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন। একচ্ছত্র প্রভাব, ক্ষমতার বেপরোয়া ছায়া লক্ষ্য করা যায় তার মধ্যে। মনিরের লালিত স্বপ্ন ছিলো চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে গলায় টাকার মালা পরা। আর চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে সব কিছুতেই বেপরোয়া তিনি । এলাকায় জমি দখল,শালিস বিচার থেকে টাকা নেওয়া, বয়স্কভাতা-বিধবা ভাতা-টিআর-কাবিখা-ভিজিএফ-জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাল কোন কিছুই তার লুটপাটের বাইরে থাকে না। কি বরাদ্ধ এসেছে তার কোন হিসাব পান না পরিষদের মেম্বররা। অসহায় জনগনের বরাদ্দের চাল পরিমানের চেয়ে কম দিয়ে বিলি করতে বাধ্য করা হয় মেম্বরদের। যার দরুন মেম্বররা প্রায়শই জনরোষের শিকার হোন। সম্প্রতি চেয়ারম্যান মনির হোসেনের বাড়ি থেকে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল উদ্ধার হওয়ার পর বেড়িয়ে এসেছে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অসংখ্য চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বর কাশেম হেসেন জানান,২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ৬৮০ জন জেলের জন্য ৩০ কেজি বস্তার ৬শত বস্তা বরাদ্দ হয়। চেয়ারম্যান জেলেদের ওই সময় চাল কম দিয়ে ১৪০ বস্তা চাল নিজের হেফাজতে রাখেন। ওই চাল বিক্রি করে কোন এক নেতার পক্ষে সংসদ নির্বাচনে খরচ করার জন্য গোপন বৈঠক করেন । কিন্তু লোভ সামলাতে না পেরে চেয়ারম্যান একাই চাল খেয়ে ফেলার পায়তারা করতে গিয়ে প্রশাসনের হাতে আটকে পরেছেন বলে জানান তিনি। এদিকে গোপন করে রাখা ১৪০ বস্তা চালের উদ্ধার হয়েছে ৯৩ বস্তা। বাকী ৪৭ বস্তা চাল চেয়ারম্যান মনির তার ইটভাটার লেবারদের খাইয়েছেন। রাজু নামের এক লোক ইটভাটার পার্টনার আছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে বলেছেন,এবছর মার্চ মাসে জেলেদের জন্য ৪৮০ বস্তা চাল জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়া হয়। তা ট্রলারে বসেই বিতারন করে শেষ করা হয়। সে চাল কোথাও মজুদ করে রাখা হয়নি। তাহলে আটকৃত চাল জেলেদের ঠকানো চাল তা নিশ্চিত হওয়া যায়। এ তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বর টিপু ব্যপারীকে প্রশ্ন করা হলে তিনিও একই কথা বলেন। তার ভাষ্য মতে, জেলেদের জন্য ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও ট্রান্সপোর্ট-লেবার-সিস্টেম লস খরচ বাদ দিয়ে ২৫ কেজি করে চাল দিয়ে থাকি। কিন্তু চেয়ার ম্যান মনির হোসেন ৬ নং ওয়ার্ডে জেলেদের সাড়ে ৪কেজি করেও চাল দিয়েছে। যে জন্য বেশ কয়েকবার জনরোষে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন জয়নগরের ৬ নং ইউপি সদস্য টিপু ব্যাপারী। একইসাথে এই ইউপি সদস্য বলেন,ইউনিয়নে ভাতার কার্ড এসেছে ১৭৩টি। কিন্তু ৯ জন মেম্বরকে ৯টি কার্ড দিয়ে বাকীগুলো কি করেছে তা চেয়ারম্যান নিজে জানেন। অপরদিকে সম্প্রতি এমপির কোঠায় জয়নগর ইউনিয়নে ২৭ টি টিপটিউবয়েল এসেছে। মাত্র ৭টি কল জনগনকে দেওয়া হয়েছে। ২০টি কল টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান বিক্রি করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে । ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা কাওছার নামের এক ব্যক্তি ২৫হাজার টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন বলে নির্ভরযোগ্যসূত্র জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে,কাগুজে-কলমে অন্যদের নাম থাকলেও কাবিখা প্রকল্পের কাজ চেয়ারম্যান নিজ দায়িত্বে করেন। সেখান থেকে মেম্বরদের উপহার হিসেবে কিছু টাকা মেম্বরদের দেওয়া হয়। এজন্য কাবিখার কাজে জয়নগর ইউনিয়নে ব্যপক দুর্নীতি হয়েছে । নাম প্রকাশ না করার শর্তে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের অপর এক মেম্বর জানান,এলাকাতে শালিসি করার নামে চেয়ারম্যান মনির ও তার ভাই মিলন হাং পক্ষপাতিত্ব করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। প্রতিদিন চেয়ারম্যানের ভাই মিলন পাথারহাট থেকে খালি পকেটে জয়নগর আসে। শালিসি ব্যবস্থা শেষ করে সন্ধ্যা হলে পকেট টাকা ভর্তি করে আবার পাতারহাট চলে যায়। আবুল কালাম নামে এক বাসিন্দার প্রায় দেড় একর জমি দখলের অভিযোগে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজেষ্ট্রিট আদালতে ফৌদারী কার্যাবিধি আইনে ১৪৪/১৪৫ ধারা আইনে ৩০/৭/১৮ইং তারিখ (মামলা নং-এম,পি ৪৪/২০১৮) চেয়ারম্যান মনির হোসেনকে প্রধান তার লাঠিয়াল বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এরকম বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকার একাদিক সচেতন ব্যক্তি জানিয়েছেন, জয়নগর এলাকাটি দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে সংবাদকর্মি এবং প্রশাসনের আনাগোনা থাকে না। তাই যে কেউ চাইলেই দুর্নীতি করে পার পেয়ে যায়। বহুমাত্রিক দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, আমি কোন দুর্নীতি করি না। অনেক সময় দলীয় লোকজনদেরকে প্রাধান্য দেয়া লাগে। সেজন্য কাজে একটু হেরফের হয়। তবে সবকিছুই এলাকার জনগনের মধ্যে বন্টন করা হয়। এরবাইরেও তিনি বলেন,এ এলাকার এমপি পঙ্কজ দেবনাথ। তার সামনে দুর্নীতি করা কষ্টকর। তবে অনেক মেম্বরা ভাগে কম পেলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়ান বলে জানান চেয়ারম্যান মনির হোসেন। নিউজ সূত্র:-প্রথম সকাল-বিপ্লবী বাংলাদেশ-সকালের বার্তা-বরিশালের আলো